ডিমের কোলেস্টেরল (Egg Cholesterol) ভীতি এবং বাস্তবতা
আমাদের সমাজে ডিমের কোলেস্টেরল (Egg Cholesterol) ভীতি অনেক দিনের পুরানো। জেনেই হোক বা না জেনেই হোক এই কোলেস্টেরলের কারনে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ থাকা স্বতে ও ডিম সম্পর্কে অনেকেরই নেতিবাচক ধারনা আছে।

আমাদের সমাজে ডিমের কোলেস্টেরল (Egg Chotestorel) ভীতি অনেক দিনের পুরানো। জেনেই হোক বা না জেনেই হোক এই কোলেস্টেরলের কারনে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ থাকা স্বতে ও ডিম সম্পর্কে অনেকেরই নেতিবাচক ধারনা আছে। ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে, তাতে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি থাকে, বর্তমান এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে এ ধারণা আসলে সত্যি নয়। সত্যিকার অর্থে ডিম খেলে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা ততটা বৃদ্ধি পায় না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে একটি উর্বর ডিম ফুটে যখন মুরগীর বাচ্চা বের সেখানে ও কিন্তু জীবন সচলের জন্য এই কোলেস্টেরলই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং ডিমের কোলেস্টেরল নিয়ে খুব বেশী ভীত বা চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই।
কোলেস্টেরল কি?
কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তেপরিবাহিত হয়। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সেল মেমব্রেনের এটি একটি অত্যাবশ্যক উপাদান । এই উপাদান মেমেব্রেনের মধ্য দিয়ে তরল পদার্থের ভেদ্যতা সচল রাখে এবং তার তারল্যবজায় রাখে ; এছাড়াও এটি একটি জরুরি প্রিকার্সার মলিকিউল যা বাইল আসিড, স্টেরয়েড হরমোন, ইস্ট্রোজেন হরমোন এবং স্নেহজাতীয় পদার্থে দ্রাব্য ভিটামিনের জৈব সংশ্লেষ ঘটায়। কোলেস্টেরল সবচেয়ে জরুরি স্টেরলযা প্রাণীদেহে সংশ্লেষিত হয়। ১৮১৫ সালে ইউজিন শেভ্রিউল নামক রসায়নবিদ প্রথম এই কোলেস্টেরল নাম ব্যবহার করেন। এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টরল। এর মধ্যে এইচডিএল হলো উপকারী। আর তিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কোলেস্টেরল আমাদের যকৃত এবং অন্ত্রে তৈরি হয়, তা সব মানুষের দেহকোষেই পাওয়া যায়।
কেন এই কোলেস্টেরল ভীতিঃ.
কোলেস্টেরল নিয়ে আমরা চিন্তিত এই কারণে, এই কোলেস্টেরল জমা হয় রক্তনালিতে। জমা হতে হতে রক্তনালির স্বাভাবিক যে রক্তস্রোত তা বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি যেকোনো রক্তনালিকে আক্রান্ত করতে পারে, মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করতে পারে, লিম্বস আক্রান্ত করতে পারে, ব্লক করতে পারে। যদি হার্টে হয় তো হার্ট অ্যাটাক হয়, যদি লিম্বসে হয় তাহলে হাঁটতে অসুবিধা হয়। মস্তিষ্কে হলে স্ট্রোক হয়। কোন ব্যক্তির রক্তে যখন খুব বেশি কোলেস্টেরল থাকে, তখন এটি ধমনীর দেয়ালে জমা হতে থাকে, যার ফলে এথেরোস্ক্লেরোসিস নামক একটি প্রক্রিয়া ঘটে যা একধরণের হৃদরোগ। ধমনী সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং হৃৎপিণ্ডের পেশীতে রক্ত প্রবাহ হ্রাস পায় বা ব্লক হয়। রক্ত হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন বহন করে, এবং পর্যাপ্ত রক্ত এবং অক্সিজেন কোন ব্যক্তির হৃৎপিণ্ডে না পৌঁছালে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। যদি হার্টের কোনও অংশে ব্লকের কারণে রক্ত সরবরাহ পুরোপুরি অথবা আংশিক বন্ধ হয়ে যায় তখন হার্ট অ্যাটাক হয়। সুতরাং কোলেস্টেরল নিয়ে ভীত হওয়াই স্বাভাবিক, তবে ভীত না হয়ে সচেতন হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যায় কেন?
শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যায় প্রথমত আমাদের খাদ্যাভ্যাসের কারণে। ডিম ছাড়াও প্রাণীজ অন্যান্য খাবার যেগুলো আমরা গ্রহণ করি যেমন গরুর মাংস, চিংড়ি, পনির এবং মাখনেও যথেষ্ট পরিমান কোলেস্টেরল পাওয়া যায়।
অলস জীবন যাপন করা, বেশি শুয়ে বসে থাকা, ব্যায়াম না করা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণ। তারপর কিছু খারপ অভ্যাস আছে যেমন ধূমপান, মদ্যপান, জর্দা সেবন এসব কারণে ও শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যায় । আবার কিছু রোগ রয়েছে যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি যা শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ায়। এমন কী কিছু ওষুধ আছে যা কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় কী?
প্রথমত আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে লাল মাংস, খাসির মাংস, গরুর মাংস এগুলো এড়িয়ে যেতে হবে। বেশি শাক-সবজি এবং মাছ বেশি করে খেতে হবে। আর নিয়মিত হাঁটতে হবে, ব্যায়াম ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। ডায়াবেটিস অথবা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আর খারাপ অভ্যাস যেমন ধূমপান এবং মদ্যপান এড়িয়ে চলতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লুএইচও) হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে ডায়েট, ব্যায়াম এবং তামাক ত্যাগ করাকে, তিনটি মূল বিষয় হিসাবে চিহ্নিত করেছে; তার পাশাপাশি রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং রক্তের সুগার এসবের ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষনকেও গুরুত্ব দিয়েছে। আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজির জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, জীবনযাত্রায় এইসকল পরিবর্তন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৮০% হ্রাস করতে পারে।
ডিমে কী পরিমান কোলেস্টেরল থাকেঃ
উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টেরল থাকার কারণে দশকের পর দশক ধরে, ডিম খাওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। একটি ৫০গ্রাম ওজনের ডিমের কুসুমে প্রায় ১৮৫ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, যা মার্কিন খাদ্য নীতিতে থাকা দৈনিক গ্রহণযোগ্য কোলেস্টেরলের মাত্রার অর্ধেক। এই নীতি অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল গ্রহণ করা যায়। কোলেস্টেরলে যত বেশী স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকবে এটি ততবেশী শরীরে জন্য ক্ষতিকর হবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে ডিমে প্রাপ্য মোট ফ্যাটের মাত্র ১/৪ অংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।
ডিমের গুনাবলী/উপকারীতাঃ
আদর্শ খাবার বলে যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে সে তালিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবার আগে এগিয়ে থাকবে ডিম। কারণ ডিম হাতের নাগালেই পাওয়া যায়, রান্না করাও সহজ, দামও কম এবং প্রোটিনে ভরপুর। সত্যিকার অর্থেই ডিম সকল পুষ্টির একটি উৎকৃষ্ট আঁধার। মাত্র ৫০ গ্রাম ওজনের একটি ডিমের পুষ্টিমান নিচের ছক থেকে সহজেই অনুধাবন করা যায়।
ছক ১ঃ ৫০ গ্রাম ওজনের একটি ডিমের পুষ্টিমান
পুষ্টি উপাদান ও পুষ্টিমানআমিষচর্বিক্যালোরিভিটামিনখনিজমোট প্রাপ্য আমিষ ৬.৩ গ্রাম। ১৮ টি অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়, যার মধ্যে হিস্টিডিন, লাইসিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, মিথিওনিন, ট্রিপ্টোফ্যান, থ্রিওনিন, ভ্যালিন উল্লেখযোগ্য।মোট প্রাপ্য চর্বি ৫.০ গ্রাম। এর মধ্যে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ১.৫ গ্রাম, মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ১.৯ গ্রাম, পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ০.৭ গ্রাম, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড ৩৭.০ মিলিগ্রাম, ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড ৫৭৪.০ মিলিগ্রাম৭৫ কিলোক্যালোরি মাত্রভিটামিন এ, ডি, ই, কে, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, বি৬, বি১২, ফলিক এসিড, কলিন, প্যান্টোথ্যানিক এসিড, বায়োটিনমোট ১১ টি খনিজ পাওয়া যায়, যার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম এবং আয়রন উল্লেখযোগ্য।ডিমের মধ্যে যে প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, রিবোফ্লোবিন, ফলেট ও ভিটামিন ডি রয়েছে, তা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে দেয়। এমনকি অনেক দিন সংরক্ষিত বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার চেয়ে ডিম ভালো বিকল্প খাদ্য হতে পারে।
এর মধ্যে আয়রন মানব কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে ও রক্তশূন্যতা দূর করে। ডিমে বিদ্যমান আয়রন সহজে হজম হয়। ভিটামিন এ ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে । ভিটামিন ডি হাড় এবং দাঁতের জন্য উপকারী। ভিটামিন ই একধরনের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা শরীরকে সুস্থ রাখে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। ভিটামিন বি১২ হার্টকে ভালো রাখে। ফলে নতুন কোষ তৈরি ও রক্তস্বল্পতা দূর করে এবং গর্ভবতী মায়েদের গর্ভপাতের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। প্রোটিন পেশি, অঙ্গ, ত্বক, চুল এবং বিভিন্ন টিসু্যর জন্য প্রোটিন হরমোন, এনজাইম এবং অ্যান্টিবডি উৎপাদন করে।
সবচেয়ে বড় কথা, রক্তে কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয় ডিম। এ ছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখে, চোখ ও হাড় ভালো রাখে ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
সত্যিই কি ডিম হৃদরোগের ঝুঁকির কারনঃ
সাধারণভাবে হার্ট অ্যাটাক হয়, যখন হার্টের ধমনীর দেওয়ালে কোলেস্টেরল এবং চর্বি জমা হয়ে, ধমনীতে কোলেস্টেরল জমাট বাঁধার কারণে হার্টে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়। ডায়াবেটিস এবং রক্তচাপের মতো আরও বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কারণ রয়েছে, এগুলোও ধমনীতে ব্লকের কারণ হতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।এখন প্রশ্ন হচ্ছে সত্যিই কি ডিম হৃদরোগের ঝুঁকির কারণ? এবার দেখা যাক এ ব্যাপারে গবেষনা এবং বিজ্ঞানীদের কী মতামত। আমাদের দরকারি সব কোলেস্টেরল আমাদের দেহেই যকৃতে তৈরি হয়।
সুতরাং একজন ব্যক্তির কোলেস্টেরল প্রোফাইল কী হবে তা নির্ভর করে তিনি কী পরিমান কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার খাচ্ছেন এবং তাঁর দেহে কি পরিমান কোলেস্টেরল তৈরি হচ্ছে। রক্তের লাইপোপ্রোটিন অণু আমাদের দেহে কোলেস্টেরল বহন এবং স্থানান্তরিত করে। প্রত্যেক মানুষের দেহে এসব লাইপোপ্রোটিনের আলাদা আলাদা ধরণ থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হবে কিনা তা নির্ধারণ করে এ ধরণের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের উপর। কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন বা এলডিএল কোলেস্টেরলকে খারাপ কোলেস্টেরল হিসেবে ধরা হয়-যা কিনা যকৃত থেকে ধমনী এবং কোষে পরিবাহিত হয়। গবেষকরা বলেন যে, এর ফলে রক্তনালীতে কোলেস্টেরল জমা হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার সম্পৃক্ত চর্বি (স্যাচুরেটেড ফ্যাট ) এর কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে বলে সতর্ক করা হয়। যেসব খাবারে ট্র্যান্স ফ্যাট বা কৃত্রিমভাবে তৈরি চর্বি থাকে, সেগুলোতেই বেশি পরিমাণে এলডিএল থাকে।
ডিমে যথেষ্ট পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা কোলেস্টেরলকে অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে জারিত হওয়া প্রতিরোধ করে। আর এ কারণেই ডিমের কোলেস্টেরল স্বাস্থ্য ঝুঁকি অন্যান্য সাধারণ কোলেস্টেলের স্বাস্থ্য ঝুঁকির চেয়ে অনেক কম। কোলেস্টেরল যখন আমাদের ধমনীতে জারিত হয় তখন এটি আরো বেশি ক্ষতি করে।
"কোলেস্টেরল যখন অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে ভাঙে বা জারিত হয়, তখন এটি প্রদাহ সৃষ্টি করে, আর ডিমে সব ধরণের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা একে জারিত হওয়া থেকে রক্ষা করে," – বলেন বিজ্ঞানী ব্লেসো।
এছাড়া, কিছু কিছু কোলেস্টেরল আমাদের জন্য ভালো। উচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন বা এইচডিএল কোলেস্টেরল যকৃতে পরিবাহিত হয়, যেখানে এটি ভেঙ্গে যায় এবং শরীর থেকে নির্গত হয়। ধারণা করা হয় যে, এইচডিএল রক্তে কোলেস্টেরল জমতে দেয় না বিধায় এটি হৃদরোগ প্রতিরোধে প্রভাব রাখে।
ডিমে যথেষ্ট পরিমানে কোলিন থাকে যা যকৃত ভালো রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
আবার লিউটিনের সবচেয়ে ভালো উৎস হচ্ছে ডিমের কুসুম। চোখে দেখা এবং চোখের রোগ নিয়ন্ত্রণের সাথে লিউটিন সম্পর্কিত।
সুতরাং এ কথা নিরদিধায় বলা যায় যে, একজন স্বাস্থ্যবান লোকের জন্য ডিম কখনই হৃদরোগের ঝুঁকির কারন নয়।
বিভিন্ন দেশে ডিম খাওয়ার হারঃ
উন্নত দেশসমুহে ডিমের পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে তারা প্রায় প্রতিদিন একটি করে ডিম খেয়ে থাকেন। জানা যায় যে জাপান, প্যারাগুয়ে, চীন এবং আমেরিকায় জনপ্রতি বছরে ডিম ভক্ষনের সংখ্যা যথাক্রমে ৩২০,৩০৯,৩০০ এবং ২৯০ টি। অথচ আমাদের দেশে জনপ্রতি বছরে ডিম ভক্ষনের সংখ্যা মাত্র ১০৩ টি।
ডিম কিভাবে কখন কতটা খাবেনঃ
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে একটি ডিম হার্টের জন্য ক্ষতিকর নয়। সকালের নাশতায় একটি ডিম কোলেস্টেরল প্রোফাইলের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না, যতটা প্রভাব ফেলে সকালের নাশতায় মিষ্টি বা চর্বি–জাতীয় খাবার। অন্যান্য খাবারের সাথে ডিম খেলে তা আমাদের শরীরে বেশি পরিমাণে পুষ্টি শোষণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সালাদের সাথে ডিম খেলে তা সালাদ থেকে ভিটামিন এ গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সিদ্ধ, অর্ধ সিদ্ধ, পোঁচ অথবা অমলেট হিসেবে অল্প তেলে ভেঁজে খওয়া যেতে পারে। তবে কোনভাবেই কাঁচা ডিম খাওয়ার অভ্যাস করা যাবেনা। কারন কাঁচা ডিম খেলে সালমোনেলা–জাতীয় ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।তরুণেরা এবং যাঁরা বেশি কায়িক পরিশ্রম করেন, তাঁরা নিয়মিত ডিম খেতে পারেন। এমনকি বয়স্ক ব্যক্তিরা সপ্তাহে কয়েকটি ডিম খেতে পারবেন। আর যাঁরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছেন, তাঁদের সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত।
উপসংহারঃ আমাদের দেশে এমন কী বিশ্বে প্রাণীজ প্রোটিনের মধ্যে ডিমই হচ্ছে সহজ লভ্য, দামে সস্তা সহজে রান্না করা যায় এবং সহজ প্রাচ্য। ডিম আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী, এর ক্ষতিকর প্রভাব নেই বললেই চলে। তবে যাঁদের কার্ডিয়াক, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি সমস্যা আছে তাঁদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামরশ মেনে চলা উচিৎ।
